বিশেষ প্রতিনিধিঃ
শালিখা ইউনিয়ন পরিষদে এসে চড় মারা ও জুতা ছুড়ে মারার অভিযোগ
মিরা খাতুন (২২), পিং- সেকেন্দার আলী খান, গ্রাম- কাঠালবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়া, শালিখা ইউনিয়ন তার স্বামীর বাড়ি সাগর বিশ্বাস, পিতা- মশিয়ার বিশ্বাস, গ্রাম- ছাইবাড়িয়া সুবেদেবনগর, ইউনিয়ন- ধকুলা, বাঘারপাড়া, যশোর। সোনিয়া খাতুন (৩১), পিতা- মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, স্বামী- সোহাগ আলী, গ্রাম- কাঁঠালবাড়ীয়া, তার পিতার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার পাথরা গ্রামের পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে।
মিরা খাতুন, কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের ছলেমান মোল্লার পুত্র ইয়াছিন মোল্লা গত ৪ বছর পূর্বে ২০২২ সালে ১৫ হাজার টাকা ধার দিয়ে ছিলাম। গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পা ভে/ঙ্গে ছিলো আর তার চিকিৎসার জন্য এই টাকা দেওয়া হয়, টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো ৬ মাস পর।
সোনিয়া খাতুন দেড় বছর পূর্বে ৪ মার্চ ২০২৫ সালে শালিখা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) শুরুশুনা উত্তরপাড়া গ্রাম উন্নয়ন মহিলা সমিতির মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা তুলা হয়। এরপর প্রতিবেশী পারভীনা খাতুনকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় আর ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় ইয়াছিনকে। ২০ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৭৫০০ টাকা দিয়েছে এখনও ১৪ হাজার ৪০০ শত টাকা পাবো ইয়াছিনের কাছে।
মিরা খাতুন ও সোনিয়া খাতুন জানান, গতকাল রবিবার ৩ মে সকাল ১০ টার সময় শালিখা ইউনিয়ন পরিষদ বোর্ড অফিসে যায়। তারপর দীপালি, পারভীন, ইয়াছিন যায় ১ টার সময় পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান মোঃ আলী হুসাইন শিকদার জিজ্ঞাসা করে মিরার কাছে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে এটা ইয়াছিন অস্বীকার করে। আর সোনিয়া খাতুনের ২০ হাজার টাকার ব্যাপারে ইয়াছিন বলে সে ২ হাজার টাকা, বড় বউ পারভীনা ৪ হাজার টাকা, ছোট বৌ আফরোজা ৮ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছে আর মাত্র ২ হাজার টাকা পাবে। কিন্তু টাকা পাবে সোনিয়া ১৪৪০০ টাকা। আর পারভীনা খাতুনের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর রাউটিং নম্বর 105411257 একটা সই করা সাদা চেক নেয় সোনিয়া খাতুন। মিরা খাতুন ও সোনিয়া আরও জানায় চেয়ারম্যান হুসাইন আলী আমার ডানগালে কসে চড় মেরে দেয় এবং বেয়াদব বলে জুতা ছুড়ে মারে এবং মারার জন্য লাঠি খোঁজে।
প্রতিবেশী শাহিদ মোল্লার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও শিউলি বেগম জানান, এর আগেও চেয়ারম্যান আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।
অফিসার ইনচার্জ শালিখা থানা মাগুরা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমি মোছাঃ সোনিয়া খাতুন (৩১), পিতা-মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, সাং-কাঠালবাড়ীয়া, ইউনিয়ন-শালিখা, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা, অত্র বিবাদী ১। মোঃ ইয়াছিন মোল্যা (৩৫), পিতা-মোঃ ছলেমান মোল্যা, ২। মোঃ ছলেমান মোল্যা (৬০), পিতা-সোনা মোল্যা, ৩। মোছাঃ পারভীনা খাতুন (৩২), স্বামী-মোঃ ইয়াছিন মোল্যা, ৪। মোছাঃ দিপালী খাতুন (৫০), স্বামী-মোঃ ছলেমান মোল্যা, সাং-কাঠালবাড়ীয়া, ইউনিয়ন-শালিখা, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা। আমি একজন গৃহিনী। বিবাদীরা আমার প্রতিবেশী। গত দেড় বছর পূর্বে বিবাদীরা আমার নামে এনজিও থেকে লোনের মাধ্যমে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা উঠাই নেয়। উক্ত টাকা বিবাদীদের এনজিওতে কিস্তির মাধ্যমে ফেরৎ দিবার কথা ছিল কিন্তু বিবাদীরা আমার টাকা ফেরৎ না দিয়ে আজকাল করে গত দেড় বছর যাবৎ ঘুরাচ্ছে। আমি গত ইং-০৫/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯.০০ ঘটিকার সময় বিবাদীদের নিকট আমার পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে বিবাদীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার পাওনা টাকা ফেরৎ দেবেনা মর্মে হুমকি দেয়। সাক্ষী ১। মিরা খাতুন (২৬), পিতা-মোঃ সেকেন্দার আলী খান, ২। মোঃ সেকেন্দার আলী খান, পিতা-মোঃ সুলতান খান, সাং-কাঠালবাড়ীয়া, ইউনিয়ন-শালিখা, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা সহ স্থানীয় অনেকে জানে ও শুনিয়াছে। এমতাবস্থায় বিবাদীদের নিকট থেকে আমার পাওনা ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। পরে আমি নিরুপায় হয়ে পরিবারের সহিত আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিলাম।
অতএব, মহোদয় উপরোক্ত ঘটনা বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করি।
বিনীত
সোনিয়া (মোছাঃ সোনিয়া খাতুন)
তাং-১০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ।
বিবাদী ইয়াছিনদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে শালিখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলী হুসাইন শিকদার জানান, মিরা খাতুন, সোনিয়া খাতুন, ইয়াছিন সহ বেশ কয়েকজন লোকজন পাওনা টাকা বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসে। তবে মিরা খাতুন টাকা পাবে তার কোন প্রমাণ নেই আর সোনিয়া খাতুনও টাকা পাবে। একটা ভুয়া ফটোকপি ব্যাংকের চেক নিয়ে তাতে ৬০ হাজার টাকার অঙ্ক লিখে দেখাচ্ছে। আর আমি মিরা খাতুনের চড় মারেনি ওরা দুজনেই মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলেছে।