ক্ষণিকের যাত্রী
আটপৌরে।
একদিন, এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর অনাবিল সৌন্দর্য আর স্রষ্টার অপরিবর্তনীয় নিয়মে—
সবাইকে চলে যেতে হবে।
চলে যেতে হবে বহুদূর,
এমন এক অজানা ঠিকানায়,
যেখান থেকে কোনো মানুষ আর ফিরে আসে না।
হয়তো আমিও কোনো একদিন—
বিধাতার, এই ধরাবাঁধা নিয়মের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে
নিঃশব্দে হারিয়ে যাব।
সেদিন কেউ আর খুঁজে পাবে না আমায়—
চিরচেনা সেই পথে,
অনুভূতির সেই ক্লান্ত স্মৃতির পাতায়,
অথবা কোনো অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহরে।
মোহ, মায়া, প্রেম, বিলাস, আনন্দ, উল্লাস, বিষাদ আর ভালোবাসা—এই সমস্ত শব্দগুলো,
যেগুলো একসময় আমার অস্তিত্ব জুড়ে ছিল,
সেদিন সেগুলোও নিঃশব্দে আমাকে উপেক্ষা করে
হারিয়ে যাবে সময়ের অতলে।
জানি, জন্মের পর মানুষ এক অদ্ভুত সীমানায় এসে দাঁড়ায়—
স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝামাঝি কোথাও।
সেই পথচলায় কেউ নিজেকে হারিয়ে ফেলে,
আবার কেউ খুঁজে পায় নিজের প্রকৃত সত্তা।
জানি,জীবন মানে শুধু চলা নয়—
নতুন নতুন অভিজ্ঞতা,
অভিযোজন আর বিয়োজনের নিরন্তর খেলা,
আঘাত আর প্রত্যাঘাতের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে গড়ে তোলা,
আর শেষে—
এক নিঃশব্দ অবসান, যার নাম মৃত্যু।
হ্যাঁ, এটাই সত্য।
এটাই নির্ধারিত।
এটাই শ্বাশত।
তবুও এই ক্ষণিকের যাত্রাপথে—
যদি কখনো ভুল করি,
যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি,
যদি নিজের অজান্তেই অন্যের হৃদয়ে আঘাত দিয়ে থাকি—
তবে ক্ষমা করো, হে প্রভু।
ক্ষমা করো, হে মানবসমাজ।
( আতাউর রহমান)