জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার গুচ্ছগ্রামসহ অন্তত ৭২ একর সরকারি খাস জমি ধাপে ধাপে ব্যক্তি মালিকানায় খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ভূমিহীন ও গৃহহীন শতাধিক পরিবার উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ভূমি অফিসের একটি চক্র সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করে নামজারির পথ তৈরি করেছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দিয়ে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানায়। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নামজারি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ গুচ্ছগ্রামবাসীর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই এলাকায় সরকারি উদ্যোগে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে বহু ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এমনকি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্র পরিবারও সেখানে বসবাস করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জমির খাজনা আদায় ও নামজারির নানা জটিলতায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।
গুচ্ছগ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, “সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এখন সেই জমিই অন্যদের নামে দেওয়া হচ্ছে।” তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী নিয়ম মেনেই নামজারি করা হচ্ছে। তবে সরকারি স্বার্থ থাকার পরও কীভাবে খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় যাচ্ছে—সে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।
আইনজীবীদের মতে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করা প্রশাসনিক ‘অসদাচরণ’-এর মধ্যে পড়ে এবং এতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।