জাকির হোসেন,
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড়পীঠ খাল থেকে অবৈধভাবে নির্মিত পাটা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। রোববার সকালে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস। খালটির পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে রাখা একাধিক অবৈধ পাটা অপসারণ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলতাপোল গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী নুর ইসলাম তার মৎস্য ঘেরে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বড়পীঠ খালের বুজতলা এলাকায় অবৈধভাবে পাটা নির্মাণ করেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ কেশবপুর পৌর শহরসহ সরফাবাদ, বাজিতপুর ও আলতাপোল এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবারের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এসব এলাকার পাকা ধানক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলে তারা শনিবার রাতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে অভিযান চালিয়ে বড়পীঠ খাল থেকে অবৈধ পাটা অপসারণ করা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার হওয়ায় পানি নিষ্কাশন সহজ হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস জানান, পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।