বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

অন্ধকারেই জীবনসংগ্রাম: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আফসার আলীর ভরসা শুধু গান, তবুও অনিশ্চিত তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ!
প্রতিবেদক / ৮৪ সময়
আপডেট সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের মৌফলকান্দী গ্রামের এক অসহায় মানুষের নাম মোঃ আফসার আলী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই ব্যক্তি জন্ম থেকেই আলো-বাতাসের পৃথিবীকে চোখে দেখতে না পারলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে প্রতিনিয়ত অনুভব করতে হচ্ছে নির্মমভাবে। চরম দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন তিনি, পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই।

তিন সন্তানের জনক আফসার আলী—দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার। কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে এই পরিবারে প্রায়ই নেমে আসে না খেয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি। অনেক দিনই একবেলা খাবার জোটে, আর বাকি সময়টা কাটে পানি পান করেই। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায়।

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভোর থেকেই বেরিয়ে পড়েন আফসার আলী। গ্রাম-অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ান তিনি। মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। তবে তার বিশেষত্ব হলো—তিনি গান গেয়ে মানুষের মন ছুঁয়ে দেন। তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে জীবনের বেদনা, যা শুনে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে সামান্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

দিনভর ঘুরে ঘুরে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন, হাতে থাকে অল্প কিছু টাকা। সেই সামান্য উপার্জন দিয়েই চলে পুরো পরিবারের খরচ, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

খাবারের কষ্ট এতটাই তীব্র যে, অনেক সময় তাদের থালায় একটুকরো মাছ বা পুষ্টিকর খাবারও জোটে না। নুন-ভাত কিংবা শুকনো খাবার দিয়েই কাটে দিনের পর দিন। চিকিৎসা, শিক্ষা বা স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো যেন তাদের কাছে বিলাসিতার মতো।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আফসার আলী শুধু একজন ভিক্ষুক নন, বরং একজন সংগ্রামী মানুষ। তার কণ্ঠে রয়েছে মায়া আর আবেগ, যা সহজেই মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনেকেই তার গান শুনে মুগ্ধ হন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেন। কিন্তু এসব সাহায্য সাময়িক—স্থায়ী কোনো সহায়তা বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা এখনো তার ভাগ্যে জোটেনি।

গ্রামের সচেতন মহল মনে করছেন, আফসার আলীর মতো একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তা, ভাতা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে তিনি শুধু নিজের পরিবারকেই নয়, সমাজের কাছেও একজন সম্মানজনক মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারবেন।

এদিকে স্থানীয়রা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন দ্রুত এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আফসার আলীর জন্য ভাতা, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবারটির প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। একটু সহায়তাই পারে আফসার আলীর পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে এবং তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031