ফেনীর পরশুরামে আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে এসেছে নাটকীয় মোড়। দীর্ঘ তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিএনএ পরীক্ষার পর পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ নন, বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন বড় ভাই মোরশেদই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আপন বোনকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভাই মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৩২ দিন কারাভোগ করেন তিনি। শুধু কারাভোগই নয়, সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার পাশাপাশি হারান মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও।
তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত শুরু করা হয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী স্বীকার করেন, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে মূল ঘটনা আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ শিক্ষক মোজাফফর আহমদকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএর ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এতে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়, মোরশেদই শিশুটির জৈবিক পিতা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
কলঙ্কমুক্ত হওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, “সত্য কখনো চাপা থাকে না। মিথ্যা অভিযোগে আমি সম্মান, চাকরি—সব হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।”
তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত