কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল-এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক অফিস সহকারী ও এক নার্সকে হাতেনাতে আটকের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্তরা হলেন হাসপাতালের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আখতারুজ্জামান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতাজ বেগম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলের আড়ালে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি হাসপাতালের একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তাদের আচরণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত আচরণ যদি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে—ঘটনার পর নিজেদের অবস্থান রক্ষায় অভিযুক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যাচাইকৃত ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সচেতন মহল দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট থাকে।